
মেটাথিয়েটার ধারণাটি প্রথম প্রস্তাব করেন লিওনেল আবেল তাঁর ১৯৬৩ সালের গ্রন্থ Metatheatre: A New View of Dramatic Form-এ। তাঁর মতে মতে মেটাথিয়েটার ট্র্যাজেডি নয়, বাস্তববাদী ড্রামাও নয়। এর প্রকৃত উদাহরণ উইলিয়াম শেক্সপীয়র রচিত Hamlet, বার্টল্ট ব্রেখট রচিত অধিবাংশ নাট্য, হেনরিক ইবসেন রচিত Peer Gynt এবং লুইগি পিরান্দেল্লো রচিত Six Characters in Search of an Author. লিওনেল আবেলর পর ‘মেটাথিয়েটার’ ধারণাটা বিস্তৃত হয়েছে পোস্টড্রামাটিক নাট্যতত্ত্বের আলোকে। আমাদের পরিবেশনা এক মেটাথিয়েটার এই অর্থে যে এটি স্ব-সচেতনতা সম্বলিত আত্মবাচক এক নাট্যপ্রযোজনা। এই প্রযোজনাটি কল্পিত ভুবন বর্জন করে নিজের শৈল্পিক-পারফরমাটিভ অস্তিত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকে।
এই প্রযোজনায় আমরা সফোক্লিস রচিত আন্তিগোনে, সেলিম আল-দীন রচিত চাকা, মুনির চৌধুরী রচিত কবর, একাধিক মনসামঙ্গল ভিত্তিক পুনহঃসৃজন বেহুলার ভাসান নাট্য ও রবীন্দ্রনাথ রচিত কবিতা সোনার তরী এবং বিভিন্ন ঐতিহাসিক দলিল পাঠ করব মাল্টিমিডিয়া সহযোগে।
আমাদের আত্মবাচক ব্যাখ্যানের ভিত্তি ভিক্টর টার্নার ও আর্নেস্ত রেনাঁ প্রস্তাবিত “নেশন কী” ও “সোশাল ড্রামা” বিষয়ক তাত্ত্বিক আলোচনা। এসকল সূত্রধরে আমরা প্রশ্ন তুলব এবং যুক্তি সহকারে দাবী তুলব যে,যতদিন বাংলাদেশের ইতিহাসে ঘটিত একাধিক গণহত্যা ও বিবিধ রাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গের লাশ ন্যাশনাল রিকন্সিলিএশনের মাধ্যমে এক প্রতীকী রাজনৈতিক ‘দাফন’ না করা হবে, যতদিন এ সকল হত্যাকাণ্ডের ক্ষত হতে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে বসবাসরত সকল মানুষ –আমরা - আরোগ্য না লাভ করব, ততদিন এ দেশে গণহত্যা ও বিবিধ রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড অবিরত চলবে।
পারফরম্যান্সটি শেষ হবে হত্যাকৃত সকল রাজনৈতিক নেতা ও সাধারণ মানুষের আত্মার শান্তি কামনা করে এক গায়েবানা জানাজা আদায়ের মাধ্যমে।
Spardha Atelier
18 Rd 101, Dhaka 1212, Bangladesh

This event has ended.